image alt text

image alt text

বন্দনা দাশগুপ্ত

২এ দূর্গা চরণ চ্যাটার্জী লেন

কলকাতা ৭০০০০৩

+৯১ ৯৭৪৮৭৫৮৬৬৩

[[TOC]]

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে অতীন্দ্রিয় ভ্রমণ এবং দর্শন নিয়ে ক্ষমতাশালী দেশ গুলো অনেক টাকা খরচ করে, গবেষণা করিয়েছিল - এবং তার যথার্থতা স্বীকার করে নিয়ে এই শক্তিকে গুপ্তচর বৃত্তিতে করে যুদ্ধ এবং ব্যবসায় সুফল আনতে চেষ্টা করেছিল । বর্তমান যুগে তারা এ বিষয়ে শিক্ষিত করার জন্য ট্রেনিং স্কুল ও খুলেছে।

এই লেখার অবতারণা এই প্রশ্ন থেকে - সেই শক্তি র উৎস কি - এ কি শুধু অলীক কল্পনা ? আমাদের দেশে এই নিয়ে এখন বহু বাকবিতন্ডা চলছে। শ্রীশ্রী ঠাকুরের বই থেকে এই বিভূতির স্বরূপ কী খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। আলোচনা প্রসঙ্গের ১৬ খণ্ড থেকে।

শরৎ কাকাবাবু (শরৎ হালদার ) ঠাকুর কে প্রশ্ন করছেন - এখন আপনি আছেন - আমরা দেখছি - ঠিক এই সময়ই কি আপনি বহুদূরে উপস্থিত হতে পারেন , যাতে সেখানকার লোক আপনাকে দেখতে পাবে?

শ্রী শ্রী ঠাকুর তার উত্তর দিচ্ছেন - মানুষের একটা শারীরিক ও আর একটা মানসিক দেহ থাকে - আমি হয়তো এখান থেকে বর্মা চলে গেলাম - যারা আমার সঙ্গে এক সুরে চলছে (ইন টিউন) তারা দেখতে পাবে। আর যারা কোনো প্রবৃত্তির দ্বারা অভিভূত নয় - তারাও দেখতে পাববে। কিন্তু যারা অভিভূত তারা পারবেনা।

এই উত্তরটার মধ্যে কিন্তু অনেক অংশ আছে। প্রথমে স্বীকার করে নিচ্ছেন যে এরকম হতে পারে। কেমন করে পারে তার কারণ দেখিয়ে বলছেন মানসিক ও শারীরিক দ্বৈততার কথা - এ যেন কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ওয়েভ পার্টিকেল ডুয়ালিটি - কণা ও তরঙ্গ - একটা সসীম আরেকটা অসীমের মধ্যে বিস্তৃত। যখন তরঙ্গ দেহ টা দেখছি কণা দেহ টা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে - যখন সীমায়িত দেহ দেখছি তখন কিন্তু অসীমে ছড়িয়ে পড়া ওই দেহটা আর দেখতে পারছিনা।

সময়টা ১৯৪৯ - তার কিছুদিন আগেই বার্মাতে ভয়ানক যুদ্ধ হয়ে হয়েছে - অনেকটা এখনকার রোহিঙ্গদের মতো - দলে দলে লোক চলে আসছে - পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে - কোথাও কোথাও আসার সময় বোমার আঘাতে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। শরৎ কাকাবাবু (কর্মকার ) সেই অসম্ভব দুর্যোগ পার হয়ে এসেছিলেন। অদ্ভুত ভাবে এই বিশাল উদ্বাস্তুদের চলে আসার কোনো বিবরণ এমনকি গুগলেও খুঁজে পাওয়া যাবেনা - ব্রিটিশরা জাপানের আক্রমণ, দুর্ভিক্ষ, বর্মার স্বাধীনতা ইত্যাদির সঙ্গে এগুলো কে গুলিয়ে দিয়েছে - সেই হাজার হাজার বাঙালি উদ্বাস্তু যারা বর্মা থেকে ধন মান নিয়ে পালিয়ে এসেছিলো তাদের কথা কিন্তু ইতিহাসে নেই - শরৎ কাকাবাবু ( কর্মকার ) তাদেরই একজন। সৎসঙ্গীদের কারো কিন্তু প্রাণহানি হয়নি। শরৎ কাকাবাবুর কেন প্রশ্নটা জেগেছিলো ভাবছিলাম। মনে হয় অনেক সৎসঙ্গীদের ঠাকুরের গলা শুনতে পাওয়ার গল্পটা উনিও শুনেছিলেন - ঠিক যেভাবে মানব চক্রবর্তী পাকিস্তানিদের হাত থেকে পালাতে পেরেছিলেন।

ঠাকুরের উত্তরের মধ্যে কিন্তু আরো আরেকটা জিনিস লুকিয়ে আছে - কারা দূর থেকে দেখতে পাবে আর কারা পাবে না - তিনি বলেছিলেন যারা আমার সাথে tuned,( সেই তরঙ্গের মত), যারা প্রবৃত্তির জালে বাক্সবন্দী হয়ে নেই, তারা দেখতে পাবে ।

আমরা মুন্ডক উপনিষদ এর মাধ্যমেও এই সত্য প্রকাশ করতে পারি। ঠিক কণা ও তরঙ্গ এর দ্বৈততার মতো দুটো পাখির কথা সেখানে আছে। একটা পাখি ফল খায় - সে সেই কনার মতো জাল বন্দি - আর একটা পাখি সব দেখে।

আমরা দেখছি একই কথা - কবি রোমান্টিক ভাষায় বলেছেন - বিজ্ঞানী বলেছেন তথ্য দিয়ে আর শাস্ত্রকার রূপকের ভাষায় বলেছেন। যিনি মঙ্গলময় যিনি পিতার মতো আমাদের সার্বিক কল্যাণ আর বিবর্তনের জন্য অতন্দ্র ছিলেন - তিনি বলেছিলেন (আ প্র: ২০ খণ্ড -৩০পাতা ) আমরা যদি আগের মতো রূপক ব্যাখ্যা নিয়ে চলতে চাই তাহলে হবেনা।

এই পাখির রূপকটা আরেকটু গভীর ভাবে দেখা যাক। উপনিষদের সব গল্পগুলোই সর্বব্যাপী প্রাণশক্তির স্বরূপ উদ্ঘাটনে উদগ্রীব। কঠে দেখতে পাই – সূর্য যেমন পৃথিবীর সমস্ত জীবনে আবশ্যিক উপাদান হয়েও কখনো নিঃশেষ হননা - বায়ু যেমন জীবনের শ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে জীবন মৃত্যুর কারণ হয়ে আছেন - কিন্তু বায়ু প্রবাহের কোন ক্ষয় নেই - তেমনি ভাবে শক্তি প্রবাহ চৈতন্য-স্বরূপের বাহন হয়ে সর্বত্র বিরাজমান - তিনি চৈতন্য রূপে প্রতিটি জীবের মধ্যে থাকলেও কোনো ইন্দ্রিয় দিয়ে পার্থিব কিছু ভোগ করেন না। সাক্ষী পাখি তার প্রতীক। ভোক্তা পাখি সংসার নাম বাক্সটার মধ্যে ঘোরা ফেরা করছে।

ট্রেনিং স্কুলের যান্ত্রিক নিয়মাবলীর মধ্যে রাশিয়া ইউরোপ আমেরিকা ওই সাক্ষী পাখির অবস্থায় পৌঁছাতে চাইছে। ভারতবর্ষের মতে অনুরাগ ছাড়া বিবর্তনের পথে স্থায়ী এবং নিশ্চিত ভাবে অগ্রসর হওয়া যায় না। যান্ত্রিক শক্তির বিভ্রান্তি থাকে, তারতম্য থাকে। সীমায়িত সীমার মধ্যে সেটা আবদ্ধ।

ভারতবর্ষ বলেছিলো কোনো যন্ত্র ছাড়াই প্রবৃত্তির অভিভূতি মুক্ত (অতএব) স্বচ্ছ দর্শনের অধিকারী মঙ্গলময় পুরুষের অনুরাগী হয়ে কর্মে প্রবেশ করলে সহজেই এই শক্তি লাভ করা যায়। পতঞ্জলীর যোগসূত্র এই কথাটাই বলছে " ইশ্বর প্রণিধানাৎ বা (২৩/১)“। অর্থাৎ অনেক পরিশ্রমের বদলে ঈশ্বরের আনুগত্য স্বীকার করলে এ বিষয় সফল হওয়া যেতে পারে।

তখন প্রশ্ন হচ্ছে ইশ্বর কে?

" ক্লেশ কর্ম বিপাকাশৈ: অপরামিস্ট: পূরুষ বিশেষ ঈশ্বর:“ (২৩/২)– যিনি পঞ্চ অবিদ্যা (ক্লেশ ), কর্মফল এবং আসক্তি দ্বারা দূষিত হন নি , এরকম পুরুষই ঈশ্বর।

" তত্র নিরতিসয়ং সর্বজ্ঞত্ববীজম্ “(২৩/৩) - তাঁর কাছে সমস্ত রকমের জ্ঞান বীজাকারে সুপ্ত থাকে।


Works Cited

Anukūlacandra , and Praphullakumar Das. Ālocanā-prasaṅge: Saṅkalayitā Śrīpraphullakumāra Dāsa. Sat̲saṅga Pābaliśiṃ Hāusa, 1958.

Morehouse, David. Remote Viewing: the Complete User’s Manual for Coordinate Remote Viewing. Sounds True, 2011.

Smith, David. “Remote Viewing.” New Scientist, vol. 203, no. 2716, 2009, p. 26., doi:10.1016/s0262-4079(09)61835-2.

http://amitavghosh.com/blog/?p=432